Amader Product

ওয়েবসাইট তৈরির সময় কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত? 2024

ওয়েবসাইট তৈরির সময় কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত

অনেককেই দেখলাম নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট তৈরিতে কোনো কোম্পানিকে বা ফ্রীলান্সার হায়ার করার প্রসেস নিয়ে জটিলতায় ভুগছেন। এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। কারণ প্রতিষ্ঠানের জন্য একটা ওয়েবসাইট তৈরী করা হলে সেটা অবশ্যই যেনো মোবাইল অপ্টিমাইজ, ইউজার ফ্রেন্ডলি, রিজনেবল প্রাইসের মধ্যে এবং সর্বোপরি ওয়েবসাইটটা যেন ব্যবসায়ের প্রসারে কাজে লাগে সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন একজন ব্যবসায়ীর মাথায় চলে আসে। আমি নিজে একজন ওয়েব ডেভেলপার এবং ডিজিটাল মার্কেটের। তাই আজকে চেষ্টা করবো

ওয়েবসাইট তৈরির সময় কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত?

ও ওয়েবসাইট তৈরিতে কোনো কোম্পানিকে বা ফ্রীলান্সারকে হায়ার করার প্রসেস নিয়ে। যেন আপনার ইনভেস্টমেন্ট এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।

নোট: লেখাটা বড় হয়ে যেতে পারে। পোস্ট সেভ করে রাখতে পারেন পরবর্তীতে ফ্রি সময়ে পড়ার জন্য। এবং বানান ভুল ইগনোর করার জন্য অনুরোধ করছি।

প্রথমেই যদি বেপারটা আপনাকে সহজ করে দেই, তাহলে বলবো: আপনি যাকেই হায়ার করেননা কেন, তাকে আপনি অবশ্যই টাকা দিয়ে কাজ করাবেন, অতএব – যেকোনো বেপারে আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে সরাসরি জিগেস করে নিবেন এবং প্রজেক্ট শুরু করার পূর্বেই খোলামেলা আলোচনা করে নিবেন।

 

আপনি ওয়েবসাইট তৈরির বিষয়ে নতুন এবং প্রজেক্টটা কমপ্লিট লাইভ করতে আপনার দিক থেকে কি কি খরচ এবং মেটেরিয়াল দেয়া লাগবে তার একটা লিখিত ডকুমেন্ট করে নিবেন। মোটকথা আপনি একটি ফুল প্যাকেজ সার্ভিস কিনে নিবেন। এতে করে কোনো ধরণের হিডেন চার্জ বহন করা লাগবেনা আপনার। সকল কিছু ওয়েবসাইট তৈরিকারক বা ফ্রীলান্সার বহন করবেন।

চলুন বিস্তারিত শুরু করা যাক-ওয়েবসাইট তৈরির সময় কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত?

১। ডোমেইনহোস্টিং নির্বাচন:

একটি ওয়েবসাইট তৈরী করার শুরুতেই ডোমেইন ও হোস্টিংয়ের প্রয়োজন হয়। ডোমেইন হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটকে ইন্টারনেটে খুঁজে পাওয়ার একটি নাম। উদাহরণ – facebook .com, amazon .com, evaly .com etc. এবং হোস্টিং হচ্ছে একটি ভার্চুয়াল স্পেছ বা মেমোরি। যেখানে আপনার ওয়েবসাইটের ফাইল, পিকচার, ভিডিও, টেক্সট ইত্যাদি স্টোর হবে। এটা অনেকটা আপনার মোবাইল মেমোরির মতো কাজ করে। যেখানে আপনি বিভিন্ন ভিডিও ফাইল, ছবি ও ডকুমেন্ট স্টোর করে রাখেন।

ডোমেইন আপনার প্রতিষ্ঠানের নামের সাথে মিল রেখে কেনার ট্রাই করবেন। আপনি নিজে ডোমেইন হোস্টিং রেজিস্টার করে দিতে পারেন। অথবা নতুন হিসেবে বিষয়টা সহজ করার জন্য ওয়েব এজেন্সিকে বলবেন রেজিস্টার করে দেয়ার জন্য এবং ডোমেইন হোস্টিং রেজিস্ট্রেশন কে করবেন সেটা আপনাদের চুক্তি পত্রে লিখিত রাখবেন অবশ্যই।

রেজিস্ট্রেশন যেই করেননা কেন, অবশ্যই আপনার কন্টাক্ট ডিটেইলস, ইমেইল ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করবেন। এতে করে ওয়েবসাইটের সকল কন্ট্রোল আপনি মেনেজ করতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে অন্য কোনো এজেন্সিকে দিয়েও আপনার ওয়েবসাইটের কোন কাজ করানোর প্রয়োজন হলে তাদের সাথে আপনি সরাসরি সহজেই ওয়েবসাইটের এক্সেস শেয়ার করতে পারবেন।

ডোমেইন হোস্টিং রেজিস্টার করার জন্য অবশ্যই এস্টাবলিশ এবং পুরোনো কোম্পানিকে বেছে নিবেন। কিছু ভালোমানের ডোমেইন হোস্টিং রেজিস্টার কোম্পনীর নাম – bluehost .com tmdhosting .com namecheap .com etc । এছাড়াও বাংলাদেশী অনেক কোম্পানি রয়েছে যারা সুনামের সাথে ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাদের থেকেও নিতে পারেন। দেশি কারো নাম মেনশন করছিনা, কারন অনেকে ভাবতে পারে প্রমোশন করছি ।

নোট: ছোট ওয়েবসাইটের জন্য যেকোনো কোম্পানির একদম বেসিক পেকেজ দিয়ে ওয়েবসাইট শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী হোস্টিং স্পেস বা পেকেজ আপগ্রেড করে নিতে পারবেন।

 

আরও পড়ুনঃ সেলস ফানেল কী? সেলস ফানেল এর ধাপ কয়টি

২। সিএমএস বা ওয়েবসাইটের ডাটা, কনটেন্ট মেনেজমেন্ট সিস্টেম নির্বাচন:

বর্তমানে বাজারে অনেক ইজি টু ইউস কনটেন্ট মেনেজমেন্ট সিস্টেম রয়েছে। যেমনঃ ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা, উইক্স, ইত্যাদি। তবে এদের মধ্যে সব থেকে সহজ, রিজনেবল, সিকিওর ও জনপ্রিয় কনটেন্ট মেনেজমেন্ট সিস্টেম হলো ওয়ার্ডপ্রেস।
এই সিস্টেম ব্যবহার করে, সার্ভিস কোম্পানি ওয়েবসাইট, ইকমার্স ওয়েবসাইট , পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট সহ সব ধরণের কমপ্লেক্স ওয়েবসাইট তৈরী করা যায় এবং তা খুব সহজেই আপগ্রেড ও মেইন্টেইনেন্স করা যাই।

আপনি নতুন হয়ে থাকলেও, আপনাকে যদি আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান কিছুটা ট্রেনিং দিয়ে দেয়, তাহলে আপনি খুব সহজেই টুকিটাকি আপডেট গুলো নিজে নিজেই সেরে ফেলতে পারবেন।

৩। ওয়েবসাইটের ডিজাইন নির্বাচন ও মোবাইল অপ্টিমাইজেশন :

বর্তমানে অনলাইনে প্রচুর থিম প্লাগিন পাওয়া যায়। এসব থিম প্লাগিনের দিয়ে প্রায় সব ধরণের ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আগে থেকেই প্রিমেড ডিজাইন করা থাকে। এসব প্রিমেড ডিজাইন থেকে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী একটা ডিজাইন চয়েস করে নিতে পারেন অথবা আপনার কম্পিটিটর, বা ইন্টারনেট থেকে পাওয়া কোনো ডিজাইন যদি আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য তৈরী করতে চান, সেটা আপনার ওয়েবসাইট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানকে বলে দিতে পারেন, এতে করে আপনার পছন্দ মতো ডিজাইন পেয়ে যাবেন।

ওয়েবসাইট তৈরির সময় কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত
ওয়েবসাইট তৈরির সময় কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত 2024


নোট : প্রিমেড ডিজাইন বা আপনার ব্যবসায়ের ধরণ অনুযায়ী ডিজাইন দেখানোর জন্য আপনার ওয়েবসাইট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানকে বলতে পারেন। এতে করে তারা আপনাকে রিলেভেন্ট ডিজাইন দেখাবে। এবং তাদেরকে বলে দিবেন ওয়েবসাইট যেন অবশ্যই মোবাইল অপ্টিমাইজ হয়। ওয়েবসাইট ভিজিটররা যেন নির্ভিগ্নে সহজেই তাদের মোবাইল থেকে ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন খুব সহজেই ওয়েবসাইট থেকে খুঁজে পেতে পারে।

৪। ওয়েবসাইট ব্র্যান্ডিং লোগো, কালার, কন্টেন্ট, ছবি, ভিডিও ইত্যাদির উপস্থাপন বিষয়ে আলোচনা :

উপরিউক্ত বিষয়গুলোর পর ওয়েবসাইট কনটেন্ট নিয়ে আলোচনা চলে আসে।
ওয়েবসাইটের লোগো যদি আগে থেকেই আপনার থেকে থাকে তাহলে সেটা ওয়েবসাইট তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানকে দিতে পারেন ব্যবহার করার জন্য অথবা আপনি যদি সম্পূর্ণ ব্র্যান্ডিং এর দায়িত্ব তাদেরকে দিতে চান তাহলে, আপনার পছন্দের বেপারে তাদেরকে জানাতে হবে। কি ধরণের লোগো আপনি চান তার কয়েকটা সেম্পল দেখতে পারেন। ওয়েবসাইটে কিরকম কালার ব্যবহার করতে চান সে বিষয়ে তারেকের জানিয়ে দিবেন।

 

এবং যদি ইকমার্স ওয়েবসাইট হয়, তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের গুরুত্বপূর্ণ পেজসমূহে- যেমন: রিফান্ড পলিসি, পণ্য ডেলিভারি সিস্টেম ইত্যাদি কি কি তথ্য লিপিবদ্ধ করতে চান তা তাদেরকে আগে থেকে জানিয়ে দিবেন।
তবে ওয়েবসাইটের কি কি পেজ এবং লেখা থাকবে, এবং এসব লেখা কে দিবে সেটার বিষয়য়ে বিস্তারিত আলোচনা করে নিতে হবে।

প্রোডাক্ট পেজে কতগুলা প্রোডাক্ট লিস্ট করা হবে, প্রডাক্টের ভেরিয়েশন আছেকিনা, এবং প্রোডাক্টের দাম সহ যাবতীয় তথ্য কিভাবে উপস্থাপন করতে চান তা আলোচনা করে নিবেন। এবং ইকমার্স ওয়েবসাইট হয়ে থাকলে কি কি পেমেন্ট গেটওয়ে ইন্টিগ্রেট করতে চান সে বিষয়ে আগে থেকেই আলোচনা করে নিবেন।

নোট : বেশিরভাগ সময়ে আপনাদেরকেই সকল কনটেন্ট প্রদান করা লাগবে। কারণ আপনার ব্যবসা সম্পর্কে আপনি সব থেকে ভালো জানেন। তবে ওয়েবসাইট তৈরী করি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে নিলে আপনার দেয়া কনটেন্ট আরও বেশি কার্যকরী হতে পারে আপনার ওয়েবসাইট ভিসিটরকে কাস্টমারের রূপান্তর করতে।

৫। ওয়েবসাইট মেইনটেনেন্স :

আপনি কোন সিএমএস বা কনটেন্ট মেনেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে আপনার ওয়েবসাইটে তৈরী করেছেন সেটার উপর নির্ভর করে আপনার ওয়েবসাইট মেইন্টেইনেন্স কতটা সহজ বা কঠিন হবে। আপনার ওয়েবসাইটে তৈরী কারি প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাটি তৈরী করে দেয়ার পর কতদিন আপনাকে ফ্রি সাপোর্ট দিবে সেটা আলোচনা করে নিবেন। ফ্রি সাপোর্ট পিরিয়ডের পর থেকে মেইন্টেনেন্সের জন্য তাদেরকে কিভাবে টাকা প্রদান করা লাগবে, সে বিষয়ে আলোচনা করে নিবেন অবশ্যই ।

তবে যদি আপনার ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস CMSব্যবহার করে তৈরী করা হয়ে থাকে,  আপনি নিজেই কিছুটা পড়াশুনা করে আপনার ওয়েবসাইটের প্লাগিন, থিম আপডেট বা প্রোডাক্টের প্রাইস, ছবি আপডেটের কাজ করে ফেলতে পারবেন। এর জন্য আপনি তাদের থেকে  বিষয়টি শিখেও নিতে পারেন। তবে ক্রিটিকাল কোন প্রব্লেমে যেন রিজোনেবল একটা এমাউন্ট বা টাকার বিনিময়ে তারা দ্রুত আপনাকে সাপোর্ট দেয় সে বিষয়ে আলোচনা করে নিতে পারেন।

ওয়েবসাইট তৈরির সময় কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত?

অনেক বড় লেখা হয়ে গেল। তবে আসা করছি লেখাটা আপনাদের উপকারে আসবে। একসময় ভিডিও আকারে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। আপনাদের কোথাও বুঝতে অসুবিধা হয়ে থাকলে কমেন্টে জানাবেন, আমি সময় করে রিপ্লেইতে উত্তর দিয়ে দিবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook
Twitter
LinkedIn

রিলেটেড আর্টিকেল

মুফতি রেজাউল করিম

ওয়েব ডিজাইনার

আসসালামু আলাইকুম। আমি একজন ওয়েব সাইট ডিজাইনার। আপনার বাজেটের মধ্যে সেরা সার্ভিস দেয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

Divider
Sponsor
বিড়ালের নখের আঁচড় কি বিপজ্জনক?

বিড়ালের নখের আঁচড় কি বিপজ্জনক? জরুরী পরামর্শ

আমরা অনেকেই শখের বসে বিড়াল পুষি। তবে এ বিড়াল আপনার জন্য অনেক সমস্যার কারণ হতে পারে। আজ আলোচনা করব, বিড়ালের নখের আঁচড় কি বিপজ্জনক? জরুরী

Read More
ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন

ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন- 2024

আসসালামু আলাইকুম। আজ আলোচনা করব, কীভাবে আপনারা নিজেরাই ঈদের শুভেচ্ছা পোস্টার ডিজাইন করতে পারবেন তা নিয়ে। অনেকেই চান যে, সামনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আপনার বন্ধু

Read More